সমাজ

ইহুদী জাতির প্রাথমিক পর্যায়ের ইতিবৃত্ত: ১

জুলফিকার আলী
জুলফিকার আলী 07 Mar, 2026
২০
টি আনুমানিক ২০০০ বছরের ইতিহাস। বিশাল এক আখ্যান। জড়িয়ে রয়েছে মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় ইভেন্ট গুলো।    পৌত্তলিক   ও একেশ্বরবাদীদের দ্বন্দ্ব।
 
  ইতিহাসে একেশ্বরবাদের ধারণাটি হলো এক ঈশ্বরে বিশ্বাস, যা বহু-ঈশ্বরবাদের (একাধিক দেবতায় বিশ্বাস) বিপরীতে অবস্থান করে। এই ধারণাটি মূলত প্রাচীন ইহুদি ধর্মে বিকশিত হয়, এবং পরবর্তীতে খ্রিস্টধর্ম, ইসলাম, শিখ ধর্ম ও বাহাই ধর্মে গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
 
    নৈতিক একেশ্বরবাদ, অর্থাৎ শুধুমাত্র ঈশ্বরের কাছ থেকেই নৈতিকতা উদ্ভূত হয়। প্রশ্ন হলো বিপরীত ধারণার মানুষদের বিভেদ এলো কি কারণে? উত্তর হলো ক্ষমতা, রাজনীতি ও হেইট ক্রাইম। ফলে সর্বশেষ যোগ হয়েছে ইজরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট। এই সংকট শুধু মধ্য প্রাচ্যর না, বরং সমগ্র পৃথিবীর জন্য অভিশাপ।। 
 
    আলোচনা করা যাক ইহুদী জাতির নির্যাতিত হওয়ার ইতিহাস। ২০০০ হাজার বছর ধরে তারা অবিরাম নির্যাতিত হয়েছে। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে কালাে অধ্যায়, ইহুদি হলাকস্টের মাধ্যমে ৬০ লক্ষ ইহুদিকে হত্যা করা।
 
    পৃথিবীতে বাস করা বহু শত জাতির মাঝে কিছু জাতি রয়েছে যারা সত্যিকার অর্থে মেধাবী। সত্যিকার অর্থে তথাকথিত অভিশপ্ত ও আশীর্বাদ প্রাপ্ত। মানব সভ্যতায় তাদের অবদান কল্পনা করা যাবে না , ইহুদী জাতি তাদেরই মধ্যে একটি।
 
    ইউরোপের দিকে নজর দিলে আমরা দেখব ভাইকিংদের। ভাইকিংরা ছিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ার (বর্তমান ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন) সমুদ্রচারী যোদ্ধা, ব্যবসায়ী ও জলদস্যু যারা ৮ম থেকে ১১শ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপ এবং উত্তর আটলান্টিকের বিশাল এলাকা জুড়ে অভিযান, বাণিজ্য ও বসতি স্থাপন করেছিল। এদের নর্সম্যান বা নর্থম্যানও বলা হত এবং এরা ইউরোপের ইতিহাসে জাতি গঠন ও রাজ্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
 
    গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টর শুরু হয় খ্রীষ্ট পূর্ব ১০০০ অব্দ থেকে, যখন থেকে কিং ডেভিড ইহুদিদের শাসন করেন। তার পুত্র কিং সলোমন ইহুদিদের উপাসনাস্থল জেরুজালেমকে তীর্থস্থান হিসেবে নির্ধারণ করেন। এরপর সেখানেই তিনি 'ফার্স্ট হোলি টেম্পল' নির্মাণ করেন। মানব ইতিহাসে সম্ভবত কিং ডেভিডই প্রথম রাজা যিনি রাষ্ট্রযন্ত্র ও ধর্মযন্ত্র কে একই ছকে বেঁধেছিলেন।
thescroll.in
    ধর্ম যে রাষ্ট্রের নাগরিক ও কোনাে নিদিষ্ট জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে,  তা পৃথিবীর মানুষ দেখেছিল  কিং ডেভিডের (নবী দাউদ) কাছ থেকেই। তখনকার সময়ে জেরুজালেমের  পার্শ্ববর্তী  এলাকা সমূহ ধর্ম ও রাষ্ট্রের এই অপূর্ব মেলবন্ধন দেখেছে। 
 
    ধর্মকে ক্ষমতার কেন্দ্র বানিয়ে রাজ্য শাসন করতে গিয়ে রাজা ও সম্রাটরা নিজেকে দেবতা অথবা ঈশ্বর দাবী করে বসতেন। কিন্তু মানুষ তাে পচনশীল, মরণশীল। একজন রাজা মারা গেলে তার সাথে তার ঈশ্বরত্ব শেষ হয়ে যেত। শেষ হয়ে যেত তার বানানাে নিয়মকানুন। আসতেন নতুন রাজা,নতুন ঈশ্বর, নতুন নিয়ম।
 
    রাজারা অনুধাবন করেন তাদের আরও শক্তিশালী স্থায়ী কিছুর প্রয়ােজন। যার শেষ নেই, যার মৃত্যু নেই, যার দুর্বলতা নেই। যা জন্ম-মৃত্যু-রােগ-শোক-মানবীয় আবেগের উর্দ্ধে । যাকে কোন কিছু দিয়েই বাঁধা যাবে না। তখন রাজারা বহু ঈশ্বরবাদী ধর্মের পাশে ছুটে চলা একেশ্বরবাদী একটি জীর্ণ-শীর্ণকায় মতবাদকে তুলে আনেন রাজপ্রাসাদে।
 
    প্রশ্ন হচ্ছে একেশ্বরবাদ কি ? ইতিহাসে একেশ্বরবাদের ধারণাটি হলো এক ঈশ্বরে বিশ্বাস, যা বহু-ঈশ্বরবাদের (একাধিক ঈশ্বর বা দেবতায় বিশ্বাস) বিপরীতে অবস্থান করে।
 
    এই ধারণাটি মূলত প্রাচীন ইহুদি ধর্মে বিকশিত হয়, এবং পরবর্তীতে খ্রিস্টধর্ম, ইসলাম, শিখ ধর্ম ও বাহাই ধর্মে গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
 
    নৈতিক একেশ্বরবাদ, অর্থাৎ কিনা শুধুমাত্র ঈশ্বরের কাছ থেকেই নৈতিকতা উদ্ভূত হয় -এই ধারণার শুরুটা হয়েছিল ইহুদীবাদের মধ্য দিয়ে। পরর্বতী সময়ে প্রাসাদে আসে খ্রিস্টধর্ম ও ইসলাম।
 
    খ্রিস্টধর্ম, ইসলাম ধর্ম এবং পৌত্তলিকদের সাথে  ইহুদীবাদের   দ্বান্দ্বিকতা  মূলত রাজনৈতিক,ক্ষমতা, প্রভাবও প্রতিপত্তির । ইতিহাস অন্তত সে কথাই বলে। কিং সলোমনের ছত্রছায়ায় ইহুদিরা  জেরুজালেমে বসে অঢেল সম্পত্তি ও ক্ষমতার মালিক হতে থাকে তখন পৌত্তলিকদের চক্ষুশূল হওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। এট যেমন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইহুদি হলােকস্টকে প্রভাবিত করেছিল তেমনি প্রভাবিত করেছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পেছনেও। হিটলার প্রোপাগান্ডায় যা ব্যবহার করেছিল তা এই প্রমাণই দেয়।
 
    ইহুদি জাতিকে অভিশপ্তু জাতিও বলা হয়। তাদের ধর্মীয়ভাবে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন তারা নিজেদের জন্য কোন বসতি পাবে না, দেশ পাবে না, রাজ্য পাবে না। তারা নির্যাতিত হতে থাকবে।
 
    এর কারণ হিসেবে খ্রিস্টান ও মুসলিম দৃষ্টিকোণ হল , ইহুদিরা ধর্মীয় ভাবাবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। ধর্মকে বদলেছে, ধর্ম গ্রন্থকে পরিবর্তন করেছে নিজেদের সুবিধা-অসুবিধা অনুযায়ী । আমরা যদি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি তাহলে তাদের অন্যায় এতটাই বেশি ছিল যে তাদের ধর্মীয়ভাবে অভিশপ্ত করা হয়েছে।
 
    কিন্তু ইতিহাসের ব্যাখ্যা তাে আর ধর্মীয়  অলৌকিকত্ব দ্বারা চলেনা, বিশেষত আধুনিক যুগে। নিপীড়ন ও হত্যাকে অবশ্যম্ভাবী ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়, ধর্মীয় অনুষঙ্গে সে জাতি যতই অভিশপ্ত হোক না কেন।
 
    একেশ্বরবাদী ধর্মে আদম, শীষ, ইদ্রিস, নুহ, মুসা,ঈসা ও ইসলামের নবী মুহাম্মদ হলেন পয়গাম্বর। ইনারা সকলেই খ্রিষ্টান ও ইসলাম ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ নবী ও রসুল। নবীগণ হজরত আদমের বংশধারায় গুরুত্ব্পূর্ণ সন্তান।
 
    ইহুদিরা বিশ্বাস করে এখন পর্যন্ত তাদের মসীহ সর্বশেষ পয়গাম্বর পুৃথিবীতে আসেননি। তারা নবী মুহাম্মদকে অস্বীকার তো করেই, অস্বীকার করে যীশু খৃষ্টকেও।
 
    ইহুদিদের সাথে আসলে কী ঘটেছে তা পয়গাম্বর মুসার পর থেকে মোটামুটি ভালােভাবে জানা যায়। এর পূুর্বে তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অবস্থা কেমন ছিল তার তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।
 
    কিন্তু ইহুদীবাদের মূল ঘটনা প্রবাহ শুরু হয় কিং ডেভিড বা রাজা দাউদ এর সময় থেকে। তার বংশধর নবী ইয়াকুব বা জেকবকে 'ইসরায়েল' উপাধি দেওয়া হয়। তাই ইয়াকুবের সন্তানদের বনী ইসরায়েল বা ইসরায়েলের বংশধর বলে ডাকা হয়। ইহুদি জাতি যেখানেই গেছে সেখানেই নিজদের শক্তিশালী আবাসস্থল নির্মাণ করে ফেলে এবং ধীরে ধীরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে।
   
    ডেভিডের ছেলে সলোমন, ইসলামে যিনি পয়গাম্বর সুলাইমান নামে পরিচিত, তিনি 'ফার্স্ট হোলি টেম্পল' বা 'সলোমন মন্দির' নির্মাণ করেন জেরুজালেমে। ঐ মন্দির পরবর্তিতে ইহুদিদের উপাসনার প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সলোমন একজন রাজা ছিলেন। তিনি রাজ্যকে এক শক্তিশালি বিশ্বাসের ওপর দাঁড় করেছেন। 
thescroll.in
    পৃথিবীর কোনো  রাজ্য, সাম্রাজ্য একক রাষ্ট্রীয় প্রভাব, বিশাল সীমান্ত চিরকাল টিকে থাকে না,তা যতই ঈশ্বরের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হােক না কেন। মহান ঈশ্বরের প্রিয় সন্তানদের রাজ্যও চিরকাল একই রকম ছিল না। খ্রিস্টপূর্ব ৯৩১ অব্দে কিং সলােমনের রাজ্য উত্তরের ইজরায়েল ও দক্ষিণের ইয়াহুদা (Judah) দুই খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায়। অর্থাৎ, সলোমনের বংশধরেরা ইজরায়েল ও ইহুদি দুই ভাগে বিভক্ত।
 
    ইজরায়েল মানেই ইহুদি না, আবার ইহুদি মানেই ইজরায়েল না। ইজরায়েল নামের রাষ্ট্র বিশ্ব ইতিহাসের মঞ্চে নেমেছে সবার পরে। ইহুদীবাদ, বনী ইসরায়েল, ইজরায়েলি জাতীয়তাবাদ তিনটি আলাদা আলাদা বিষয়।
 
    ইসলামে ইয়াকুবের ১২ সন্তান ১২টি গােত্রে বিভত্ত ছিল। ইহুদি বলতে ইয়াকুবের মাত্র দুটি গােত্রকে বোঝায় এবং বনী ইসরায়েল বলতে বাদ বাকি দশটি গোত্রকে বোঝায়। ইহুদি ও বনী ইসরায়েলের মাঝে গৃহযুদ্ধ বেঁধে যায়। ভাইয়ের হাতে খুন হতে থাকে ভাই, গােত্রের হাতে খুন হতে থাকে গোত্র। এক বিশ্বাসীদের হাতে পুড়তে থাকে আরেক বিশ্বাসীর মন্দির, ঘর, সন্তান। 
 
    এরপর অ্যালেক্সান্ডার  দি গ্রেট এর মৃত্যুর পর রোমান সাম্রাজ্যের উখানের আগে আসে হেলেনিস্টিক পিরিয়ড। পারস্য সাম্রাজ্যের পতনের পর গ্রীকরা ইহুদিদের রাজ্য শাসনের ক্ষমতা তাদেরই হাতে দিয়েছিল। কিন্তু রাজা চতুর্থ এন্টেকাস দ্বিতীয় মন্দিরের ভেতরে মূর্তি স্থাপন করেন।রাজার এ ধরণের কাজ ইহুদিদের ক্ষিপ্ত করে এবং বিদ্রোহ করে বসে।
 
    বিদ্রোহ দমনের জন্য গ্রীকরা ইহুদিদের উপরে অত্যাচার ও নিপীড়ন চালায়। ইহুদিরা সব ধরণের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আগ্রাসনকে শুরু থেকেই প্রতিহত করার চেষ্টা করে। ফলে শক্তিমত্তায় দুর্বল হওয়ার কারণে তারা নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়। যদিও গ্রীকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে ইহুদিরা সফল হয় এবং নিজেরা স্বায়ত্ত শাসন পায়। কিন্তু স্বায়ত্তশাসনের এই সুখ ইহুদিদের বেশিদিন টেকেনি।
 
    রােমানদের সাস্রাজ্য সম্প্রসারণের সময় ঘটনা প্রবাহে জেরুজালেম রােমান সান্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। রোমান সাম্রাজ্য ও ইহুদিদের মধ্যে দ্বন্দ্বের প্রধান কারণগুলো ছিল ধর্মীয় ও রাজনৈতিক। ইহুদিদের একেশ্বরবাদে বিশ্বাস, রোমান সম্রাটদের দেবত্ব স্বীকার না করা, এবং পবিত্র ভূমিতে রোমানদের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাদের মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়।
 
    এছাড়াও, রোমান প্রশাসকদের নিষ্ঠুরতা, উচ্চ কর, এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা এই দ্বন্দ্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। মধ্যপ্রাচ্যে রোমানদের এই শাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই শাসনের কারণেই মধ্যপ্রাচ্যে খ্রিস্টধর্মের উদ্ভব হয়। খ্রিষ্ট ধর্মের উদ্ভব ইহুদিদের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় ছিল। এর আগ পর্যন্ত দক্ষিণের যিডাহ (ইয়াহুদা) স্বাধীন অঞ্চল ছিল। রােমান সেনাপতি টাইটাস জেরুজালেম দখল করেন,সেকেন্ড টেম্পল ধ্বংস করেন। সেসময় ইহুদিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে শরণার্থীর মতাে বসবাস শুরু করে।
 
    জেরুজালেমে একেশ্বরবাদী দের যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা পূরণ করতেই অবশিষ্ট ইহুদিদের মাঝ থেকেই খ্রিষ্ট ধর্মের উদয় হয়। নাজরাথের যীশু নিজের বিশ্বাস জনগণের মাঝে প্রচার করতে থাকে। এটা জেরুজালেমে বসবাসরত অন্যান্য ইহুদিদের পছন্দ হচ্ছিল না। শুধু ইহুদি না, যীশু খ্রিষ্ট সে সময় সকল ধর্মের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিলেন। তাকে পথ থেকে সরিয়ে ফেলা ইহুদি ও পৌত্তলিক সবার জন্যই জরুরি ছিল। এক সময় ইহুদি ও রোমানরা যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করে।
 
    ১৩১ খ্রিষ্টাব্দে ইহুদি রাব্বি সাইমন বার কোথবা রােমানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। রােমানরা খুবই মৌলিক পদ্ধতিতে বার কোথবার এই বিদ্রোহ দমন করে। বার কোথবার বিদ্রোহ ছাড়াও রােমানদের বিরুদ্ধে আরও কিছু ছােট বড় বিদ্রোহ হয়।
 
    সাইমন বার কোথবাকে হত্যার পর রোমানরা নড়ে চড়ে বসে। রোমানরা বহু সংখ্যক ইহুদিকে হত্যা ও নির্বাসিত করে, বহু ইহুদি গ্রাম পুরোপুরি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সেন্ট্রাল ইজরায়েলে যে ইহুদিরা ছিল তাদের দাস বানিয়ে বিক্রি করা হয়। জেরুজালেমকে  রোেমান কলােনি বানিয়ে নাম রাখা হয় 'এলিয়াক্যাপিতালাইনা'। ইহুদি পরিচয় মুছে ফেলতে রােমানরা যিহুদিয়া (Judea) বা যাকে মুসলিমরা বলে ইয়াহুদা (Yahuda) অর্থাৎ ইহুদিদের রাজ্যের নাম রাখে 'প্যালেসতিনা'।
 
    প্যালেস্টাইন" শব্দটি (ল্যাটিন ভাষায় ইংরেজি উচ্চারণে প্যালেস্টিনা) প্রাচীন গ্রীক ভাষায় এসেছে একটি সেমিটিক টপোনিম থেকে যা খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শেষের দিকে সাধারণ অঞ্চলের জন্য ব্যবহৃত হত। এটিই পরবর্তীতে প্যালেস্টাইন বা ফিলিস্তিন বলে পরিচিতি পায়। আরবি শব্দ ’ফিলিস্তিন’ শব্দের উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ প্যালেস্তিনা থেকে। 
                                                ক্রমশ...
জুলফিকার আলী

জুলফিকার আলী

দ্য স্ক্রল এর একজন নিয়মিত লেখক এবং বিশ্লেষক।