জাতীয়
অভিবাসনের এপার ওপার
সম্প্রতি ২০২৫ এর ২৪ শে জুন দিল্লীর রোহিনী এলাকার কে এন কাটজু মার্গ থানার 'আইডেন্টিটি ভেরিফিকেশন ড্রাইভ' অপারেশনে গ্রেফতার হয় এক বাংলাভাষী পরিবার।
অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন, তার স্বামী দানীশ সেখ ও ছেলে সাবির সেখকে দিল্লী পুলিশ বাংলাদেশী হিসেবে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেয়। ২৬ শে জুন ২০২৫ এর মধ্যেই তড়িঘড়ি ভারতবর্ষ থেকে বাংলাদেশে ডিপোর্টেড করে দেওয়া হয় পরিবারটিকে।
বীরভূমের মুরারই বিধানসভার এলাকার পাইকার গ্রামের বাসিন্দা সোনালী শেখের বাবা ভদু শেখ দাবী করেন তার মেয়ে ভারতীয় হিসেবে সমস্ত নথি দেখানো সত্বেও কোন কথা মানতে চায়নি দিল্লী পুলিশ। এই মর্মে ভদু সেখ CJA (ক্যাম্পেইন ফর জাস্টিস ফর অল) নামের একটি মানবাধিকার সংগঠনের সহযোগিতায় কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা রুজু করেন।
২০২৫ সালের ২৯ শে সেপ্টেম্বর মহামান্য হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ রায় দেয় যে ডিপোর্টেশনটি সম্পূর্ণ অবৈধ, সোনালী খাতুনের পেশ করা নথির সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্বের তথ্যগুলি সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্র সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে সোনালী খাতুন কে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়। কেন্দ্রীয় সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে এবার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে।
জানা যায়, ২০০২ সালে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের এস আই আর নির্বাচনী তালিকায় সোনালী খাতুনের বাবা মায়ের নাম রয়েছে। কিন্তু গর্ভবতী সোনালী খাতুন নাগরিক অনিশ্চয়তায় এখন বাংলাদেশের কারাগারে দিন গুনছে।
আরো অনেক সোনালী খাতুনরা দুরু দুরু বুকে দিন গুনছে রাষ্ট্রীয় গলা ধাক্কার। ওয়াকিবহাল মহলে প্রশ্ন উঠছে দেশের তথা পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী মুসলিমদের বেআইনি ও অবৈধভাবে বাংলাদেশী রোহিঙ্গা দাগিয়ে দিয়ে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বুকে অনিশ্চয়তার ভয় ধরিয়ে দেওয়াটাই কি তাহলে বর্তমান বিজেপি সরকারের উদ্দেশ্য ? কখনো এনআরসি, কখনো এনপিআর, কখনো বা সিএ এর নামে ভীতি প্রদর্শনটা এখন সর্বজনবিদিত। বিজেপি সরকারের 'মোল্লা' তাড়ানোর এজেন্ডা আর কোন লুকোছাপার বস্তু নয় এখন।
পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী মোট ২৭.১% মুসলিম এর মধ্যে ২৪.৬% বাঙালি ও ২.৯% অবাঙালি মুসলিম রয়েছে। দেশ ভাগের সময় সম্ভ্রান্ত মুসলিমদের বৃহদংশ পাকিস্থানে এবং উচ্চবিত্ত, শিক্ষিত বাঙালী মুসলিমদের অনেকাংশই বাংলাদেশে চলে যায় । যারা পড়ে থাকলো তাদের আর্থ - সামাজিক অবস্থা ছিল তথৈবচ । উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল ঘোষ,ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়, জ্যোতি বসু এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে ১৯৭১ এর প্রেক্ষিতে ১৯২৩ এ চিত্তরঞ্জন দাশের বেঙ্গল প্যাক্ট মুহূর্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের জন্য ন্যূনতম কিছু ভাবাটাও হয়ে ওঠে অপরাধের সামিল।
পূর্ববঙ্গের মানুষ দের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি ভাবে বেসরকারি ভাবে যুদ্ধকালীন তৎপরতা চলে, '৭১ এর প্রেক্ষিতে তার মানবিক দিক অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। কিন্তু ফল হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বিশেষ করে নদীয়া চাকদা,হাসখালি,বগুলা রানাঘাট, জাগুলি, হরিণঘাটা, অশোকনগর, বিরাটি, হাবড়া, ঠাকুরনগর, বনগাঁ ইত্যাদি অঞ্চল সহ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং বর্ধমানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ডেমোগ্রাফিক ভরসাম্য নষ্ট হয় ।
উদ্বাস্তুদের জন্য যথাসম্ভব পরিকাঠামো, বাসস্থান ও জীবিকা -এক কথায় 'রোটি, কাপড়া আউর মকান' এর ব্যবস্থা করে দেওয়াটা এক ধরনের অঘোষিত নীতি হয়ে ওঠে। এদের বেশির ভাগের কাছে কোনো রকম আইডেন্টিটি বা সরকারি কাগজ না থাকাটাই স্বাভাবিক ছিল।
পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সফল মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায় বাড়তি জনসংখ্যার সমস্যার সমাধান করতে পরিকল্পনা করেন কল্যাণী, দুর্গাপুর, আসানসোল, বিধান নগরের মতো উপনগর। আর গণ হারে তাদের সরকারি অফিস আদালতের বিভিন্ন দপ্তরে ও বেসরকারি শিল্প সংস্থায় কর্মসংস্থান করে দেন। এদের বেশির ভাগই এখন নথিগতভাবে SC তপশিলভুক্ত। এরা আদতে পূর্ববঙ্গে তপসিলভুক্ত ছিল কিনা এ প্রশ্ন এখন অবান্তর। প্রাথমিকভাবে মৌখিক সুপারিশের ভিত্তিতে গণ নিয়োগ, পরে বিনা যাচাই-এ দেওয়া সার্টিফিকেটের জোরে ডাক্তার, অধ্যাপক, কেরানি সহ সরকারি অফিসের টেবিলে টেবিলে এদেরই আধিপত্য। স্পষ্টভাবে সত্যি কথা বলতে গেলে এদের চাপে এপারের মুসলিমদের কথা ছেড়েই দিলাম, এপারের বুঝে গেলাম। ঘটি হিন্দুদের অবস্থাও সংকটাপন্ন ।
পাঞ্জাবের ক্ষেত্রে তৎকালীন নেহেরু সরকার (লিয়াকত চুক্তি অনুসারে) আন্তরিকতার সঙ্গে পশ্চিম পাঞ্জাব থেকে আসা হিন্দুদের জমি ঘর বাড়ি সব রকমের সাহায্য দিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। সমকালীন সবুজ বিপ্লব, অপারেশন ফ্লাড দেশের অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করল। যদিও পরবর্তীতে পাঞ্জাবের মানুষেরা সরকারের সমস্ত সুযোগ সুবিধা নিয়েও বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার বিরোধী খালিস্থানী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে।
সামগ্রিক বিষয়টি পর্যালোচনা করলে আপাত দৃষ্টিতে মনে হবে অভিবাসন সমস্যা আসলে দেশের সমস্ত সমস্যার শিকড়। কিন্তু আদৌ তাই কি ?
অভিবাসনজনিত তথ্যনিষ্ঠ আলোচনা করতে গেলে এক নগ্ন সত্যের মুখোমুখি হতে হয় আমাদের।
ভারতীয় উপমহাদেশ বলতে যা বোঝায় তা আফগানিস্থান থেকে মায়ানমারের পূর্ব সীমান্ত ও কাশ্মীর থেকে শ্রীলংকা পর্যন্ত বিস্তৃত। শুধু তাই নয় সমগ্র মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া থেকে ঐতিহাসিক কারণে যুগে যুগে মানুষ ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করেছে, যার অর্থ আফগানিস্থান,পাকিস্থান ও বর্তমান ভারতবর্ষের উত্তর- পশ্চিম অংশে ব্যাপকভাবে বহিরাগতদের, মানে অভিবাসীদের বাস।
কোথায় থেকে আসল এরা ? ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিক তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে ১৭৫০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্টীর ইন্দো-ইরানীয় শাখার অভিবাসনের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছিল এই এলাকা। পরবর্তীতে বৃহত্তর ভারতীয় উপমহাদেশের গণ্ডী সংকুচিত হতে থাকলে মূলত ইউরেশিয়ানদের পীঠস্থান হয়ে ওঠে তৎকালীন ভারতবর্ষ, বকলমে হয়ে ওঠে আর্যাবর্ত।
মজার বিষয় হচ্ছে প্রাক-আধুনিক ইউরোপে বহুবার বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে জোর করে অন্য দেশের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে । আবার তাদের ফিরিয়ে আনাও হয়েছে। আমেরিকার বেশির ভাগ মানুষ সে দেশের নয়, হয় ইংল্যান্ড বা ইউরোপের অন্য দেশ থেকে আসা। অনেক বিজি আছি আমেরিকাকে ইংল্যান্ড ইউরোপের 'পিনাল কলোনি' বা নির্বাসন ভূমি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। অন্য অনুষঙ্গে পিউরিটান খ্রিস্টানদের নেটিভ আমেরিকান বা আদি অধিবাসী রেড ইন্ডিয়ানদের সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের ধ্বংসযজ্ঞে সক্রিয় ভূমিকা আমেরিকায় অভিবাসী প্রভুত্বকেই ঐতিহাসিক ভাবে সমর্থন করে। অন্যভাবে বলতে গেলে আমেরিকায় স্প্যানিশ ইংলিশ ফ্রেঞ্চ ও ডাচ অভিবাসীরা দীর্ঘ সময় ধরে নানা অছিলায় ভূমি লন্ঠন ইংল্যান্ড ও ইউরোপের মিলিত শাসন প্রতিষ্ঠা কায়েম ও ব্যাপক গণহত্যার মাধ্যমে আদি অধিবাসী রেড ইন্ডিয়ানদের দের নব্বই শতাংশ মানুষকে হত্যা করে নিজেদেরই আমেরিকার 'ভূমিপুত্র' হয়ে বসে।
এখানে আর্যদের ভারত আগমনের সঙ্গে কোথাও একটা ক্যাটাগোরিক্যাল সাদৃশ্য পাওয়া যাচ্ছেনা ? যাই হোক সেই থেকে আজও আমেরিকার অভিবাসন প্রক্রিয়া সচল। সেটা আর ও ব্যাপক আকারে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্থান বা আফ্রিকার দেশগুলি থেকে নাগরিকত্ব নেওয়া মানুষ। ইদানিং সেখানকার কঞ্জারভেটিভ সরকার অভিবাসন বিষয় কঠোর নীতি প্রণয়নের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।
আমেরিকাতে যারা বিদেশি অভিবাসন বন্ধ করতে চাইছে ঐতিহাসিক কারণে তারা কেউই আদি আমেরিকান নয়। পৃথিবীজুড়ে ফ্যাসিবাদ যখন প্রকৃত ইতিহাসকে কবর দিয়ে সত্যচর্চার মুখ বন্ধ করতে চাইছে তখন সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের নির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি পরিষ্কার করে বলেছেন আমেরিকা অভিবাসীদের দেশ।
একই ভাবে ভারত ও ব্যাপক অর্থে অভিবাসীদের দেশ। বিগত এক দশক ধরে ফ্যাসিবাদী কায়দায় কখনো CAA, NRC বা সম্প্রতিক SIR প্রভৃতির মাধ্যমে বিভিন্ন ভাবে দেশের জনগণ কে জোর পূর্বক নাগরিকত্বের প্রমান দিতে বলা হচ্ছে। এসবের সব চেয়ে জোরাল সমর্থক মধ্যবিত্ত শিক্ষিত পূর্বোল্লিখিত চাকরি-জীবি বা তাদের বংশধররা। এদের বড় অংশ হলো তপশীলি শংসাপত্র 'জোগাড়' করা সম্প্রদায়।
এদের দৃঢ় বিশ্বাস 'রাম রাজত্বে' স্বয়ং ভগবানেরও মিথ্যা কথনের বিরুদ্ধে কিছু করার নেই। সম্প্রতি SIR এর মাধ্যমে নাগরিক তথ্য যাচাইয়ে বিজেপি সরকার প্রচার করেছিল পশ্চিমবঙ্গে কয়েক কোটি বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা মুসলিম আছে তাদের তাড়িয়ে দিয়ে পারলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পালাবদল ও পশ্চিম বঙ্গের "দুধেল গাই" দের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাংলাভাষী সোনালী খাতুনদের বেনাগরিক সাজিয়ে বাংলাদেশ পাঠানোটা ছিল সেই পরিকল্পনারই প্রচারিক পূর্বপ্রস্তুতি। গদি মিডিয়া ভীষণ তৎপরতার সঙ্গে প্রভুনির্দেশিত প্রচার-প্রসার চালিয়ে গেলেও SIR এর তথ্য যাচাইয়ে উঠে আসা পরিসংখ্যানের মধ্যে দিয়ে কয়েক কোটি বাংলাদেশী রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীর গল্পটি নেহাতই গল্পের গরু হিসেবে প্রমাণিত হতে চলেছে।

নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নিরিখে বাঙালীর ইতিহাস পড়তে গিয়ে গুজরাত লবি বড্ড তাড়াহুড়ো করে ফেলেছে। দেশভাগের সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা প্রধানত বাংলাদেশে গিয়েছে, পূর্ব বাংলার মুসলিমরা পশ্চিম বঙ্গে আসেনি বললে সত্যতার অপলাপ হয় না। নগন্যসংখ্যক কিছু বাংলাদেশী অবৈধ ভাবে কলকাতা বা ভারতের কয়েকটি শহরে থাকতে পারে। এটা নতুন কিছু নয়। বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই যেখানে অবৈধ বিদেশী নেই। ইউরোপের দেশগুলিতে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, সিরিয়া, লেবানন প্রভৃতি দেশ থেকে আসা প্রচুর অবৈধ অভিবাসী আছে।
হ্যাঁ, এটাও ঠিক যে অবৈধ অভিবাসী থাকলে তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু প্রশ্ন হল এটা কি বলা যায় যে 'বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেব' ? ভারতের 'অবৈধ নাগরিকদের' কি বাংলাদেশ নেওয়ার জন্য বসে আছে, এ প্রশ্নটা এখানে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তারাও তো প্রমান চাইতে পারে এরা যে বাংলাদেশি তার প্রমান কি?
তাছাড়া হিটলারী পরিকল্পনায় রাজ্যে রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্প তো খোলাই হয়েছে। তাহলে বাংলাদেশের কথা আসছে কোত্থেকে ?
বিজেপি সরকারের কোন পলিসি নিয়ে সমালোচনা করলেই প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে 'পাকিস্তানী' 'দেশদ্রোহী' 'মাকু' 'সেকু' 'মোল্লা'৷ কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের তুঘলকি আইন ও আইন রক্ষাকারী সংস্থাগুলির অসাংবিধানিক অপপ্রয়োগ এ বিষয়টিকে খুব সূক্ষ্মভাবে স্পন্সর করছে। রাষ্ট্রীয় অপপ্রচারযন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় কট্টরবাদ এমনভাবে দেশে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করে দিয়েছে যে দেশের মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে কোনো দাবী বা আন্দোলন করার সাহস পাচ্ছেনা। সকলে কাগজ জোগাড় করছে কি ভাবে ডিটেনশন ক্যাম্প বা বাংলাদেশে যাওয়ার হাত থেকে প্রিয়জনদের বাঁচাবে।
অদ্ভুত বিষয় হল আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও সাম্প্রতিক ভোটের বাজার গরম করার জন্য বিহার বাদ দিলে ,ভারতের কোথাও SIR নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মত হৈচৈ নেই । কেউ বলতে পারেন আসাম ,পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত রাজ্য তাই। তাহলে পাঞ্জাবও তো দ্বিখন্ডিত হয়েছে।পুরো পাঞ্জাব অবৈধ শরণার্থীতে ভর্তি। তাহলে ওখানে তো বৈধ নাগরিক খোঁজার তাড়া নেই কেন ! তবে কি পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ই টার্গেট ? আমেরিকার কট্টরপন্থীদের সঙ্গে দেশীয় কট্টরপন্থার তেমন কোন পার্থক্য এখানে দেখা যাচ্ছে কি ? নিজেদের পূর্বপুরুষ অ-আমেরিকান, অথচ তারা আমেরিকার মালিক সেজে বসে আছে।
ভারতে সত্যি যদি প্রকৃত ভারতীয় খুঁজতে হলে নৃতাত্ত্বিক ও জেনেটিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হোক কে আদি আর কারা অন্য দেশ থেকে আক্রমনকারী হয়ে ভারতে এসেছিল। ইতিহাসের আদি আক্রমনকারীরাই আজ ভারতীয়দের জাতীয়তার পরীক্ষা নিচ্ছে এটা কে নিছকই প্রহসন ছাড়া আর কিছু বলা যায় কি !!
যে সোনালীদের বাপ দাদা চোদ্দগুষ্ঠি অনাদিকাল থেকে আর্যদের সঙ্গে লড়াই করেছে, বাঙলায় বর্গী ও হুন আক্রমন প্রতিহত করেছে, যাদের পূর্বপুরুষের রক্তে অর্জিত ভারতের স্বাধীনতা, সেই সোনালীরা আগামীতে বিদেশের অন্ধকার কারাগারে বসে গর্ভে থাকা সন্তানটির কানে কানে ফিসফিস করে বলবে "বাছা এখন থেকে তোর আর কোন দেশ নেই" ?
[প্রসঙ্গত : দীর্ঘ আইনি লড়াই ও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে সোনালী খাতুন গর্ভবতী অবস্থায় ৬ মাস পর ২০২৫- এর ডিসেম্বর মাসে তিনি ভারতে ফেরেন। ২০২৬- এর জানুয়ারিতে তিনি রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। আপাততঃ সোনালী খাতুনের সন্তান এ যাত্রায় নাগরিকত্ব পরীক্ষায় উতরে গিয়েছে।]