ফিচার
বাবর কা আওলাদ
১.
বারো হাজার। হ্যাঁ, মাত্র বারো হাজার সৈন্যসামন্ত নিয়ে জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ভারতে এসেছিলেন। কোনও কোনও ঐতিহাসিকের মতে সংখ্যাটা আরও কম।
সে যাই হোক, 'বাবর কা আওলাদ' কথাটি আজকাল হামেশাই শোনা যায়, বিশেষ করে অতি হিন্দুত্ববাদী ব্যক্তিরা মুসলমানদের গালিগালাজ করতে কথাটি ভীষণ ব্যবহার করেন। শব্দগুলি শুনে আমি উৎসুক হয়ে ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করি।
ভারতের এখন মুসলিম জনসংখ্যা কমবেশি ২০ কোটি। এদিকে বাবরের নামেই যত অভিযোগ। তার মানে শুধু এক বাবর থেকেই ২০ কোটি ? ব্যাপারটা বেশ ইন্টারেস্টিং।
পৃথিবীতে চেঙ্গিস খানের বংশধর প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ বা ১৬ মিলিয়ন মানুষ। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ১৬ মিলিয়ন মানুষ, বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের কিছু অংশে, চেঙ্গিস খানের সাথে সম্পর্কিত একটি বিশেষ ওয়াই ক্রোমোজোম বহন করে। এটি একটি Y-ক্রোমোজোম মার্কার (Haplogroup C-M217) যা তাঁর বংশধরদের মধ্যে পাওয়া যায়।
বাবর কী করে চেঙ্গিস খানকে টপকে ২০ কোটিতে পৌঁছে গেলেন, তা বিস্ময়কর ব্যাপার। বাবর কি তাহলে অতিমাত্রায় লিঙ্গ পরায়ণ ছিলেন? এই নিয়ে আমি প্রায় বারো বছর ধরে বইপত্র ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পড়াশোনা করছি। কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর কোথাও পাইনি। এই যে বাবর মশাই এলেন। ২১ এপ্রিল ১৫২৬ থেকে ২৬ ডিসেম্বর ১৫৩০ প্রায় চার বছর রাজত্ব করলেন। সঙ্গে প্রায় ১২ হাজার সৈন্যসামন্ত। এদের তো জৈবিক চাহিদা ছিল।
তা ইনারা ‘চাষ আবাদ’ করতেন কোথায়? যেহেতু ইনারা মানুষ। তাই স্বভাবতই যৌন ক্ষুধা বা যৌন চাহিদা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আর ইনারা তো তুর্কিমেনিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে নারী বাহিনী সঙ্গে করে আনেনি। তাহলে এই ১২ হাজার সৈন্যসামন্তরা কি তাদের ‘পুরুষাঙ্গ’-গুলি দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতেন? না, রাতের-বেলা ইনারা তুর্কিমেনিস্তান বা আফগানিস্তান চলে যেতেন?
এ কথা সত্যি যে, কোন যুগেই বহিরাক্রমণকারীরা সুবোধ বালকে ছিল না। যুদ্ধ জেতার পরে লুন্ঠন, লুঠতরাজ, নারীধর্ষণ এগুলো ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। ভারতীয় ইতিহাসের অনেক বইয়েই এর বর্ণনা মেলে। কিন্তু যুদ্ধজয়ী মোঘল তথা বাবর যখন ভারতে স্থায়ীভাবে থেকেই গেলেন, তখনও কি তারা প্রতিনিয়ত ধর্ষকামী লিঙ্গচর্যা চালিয়ে যেতেন? সম্ভবত, না।
কিন্তু একশ্রেণীর হিন্দুত্ববাদীরা (সবাই নয়) যত দোষ নন্দ ঘোষ, সেই বাবরকেই দেয় কেন? মানে মূল টার্গেট বাবর কেন? সে বেচারা তো মাত্র ১২ হাজার লোকলস্কর নিয়ে এসেছিল। আগেই বলেছি, এইসব সৈন্যসামন্তরা ‘চাষ আবাদ’ কোথায় করতেন, জানা যায়নি। যৌন রিপু কন্ট্রোল করা খুব কঠিন কাজ। বড় বড় মহাপুরুষেরাই যৌন চাহিদা সংবরণ করতে পারেননি। আর এরা তো 'কুতো মনুষ্য'।
তখন তো এমন কোন টেকনোলজি বা কমিউনিকেশন পরিষেবার কথাও শোনা যায়না যাতে করে সন্ধ্যায় তারা তুর্কিমেনিস্তান বা আফগানিস্তান গিয়ে জৈবিক চাহিদা মিটিয়ে সকালে ভারতে ফিরে আসতে পারত।
২.
বুদ্ধিমানদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট। বাকি যারা কম বোঝেন, বা বেশি বোঝেন, তাদের জন্য এই অংশটুকু লিখতে হচ্ছে।
সব দোষ বাবরকে দিলে হবে না। মনে রাখতে হবে বাবর আসার আগেই, ভারতে ‘সুলতানি শাসন যুগ'-এর শুরু হয়ে গিয়েছিল। ১১৯২ সালে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে মহম্মদ ঘোরি জয়লাভ করেন। তারপর কুতুবউদ্দিন আইবেক ১২০৬ থেকে ১২১০ পর্যন্ত শাসন করেন।
এই সুলতানি শাসন যুগকে সাধারণত পাঁচটি প্রধান যুগে ভাগ করা যায়। ১. মামলুক শাসনকাল ১২০৬ থেকে ১২৯০ সাল, ২. খিলজি শাসনকাল ১২৯০ থেকে ১৩২০ সাল, ৩. তুঘলক শাসনকাল ১৩২০০ থেকে ১৪১৪ সাল, ৪. খিলজি শাসনকাল ১২৯০ থেকে ১৩২০ সাল, ৫. সৈয়দ শাসনকাল ১৪১৪ থেকে ১৪৫১ সাল, ৬. লোদি শাসনকাল ১৪৫১ থেকে ১৫২৬ সাল।
এই পাঁচটি সাম্রাজ্য ছাড়াও বাংলা, মালওয়া, গুজরাট, জৌনপুর সহ বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট ছোট সুলতানি রাজ্য গঠিত হয়েছিল। সুতরাং বাবরের আগেই অন্য বাবর-রা ভারতে অলরেডি হাজির ছিলেন এবং শাসনকার্যও চালিয়ে গেছেন তা বলাইবাহুল্য।
আবার মূল গল্পে ফিরে আসা যাক। মহম্মদ ঘোরির ১ লাখ সৈন্য, অন্যদিকে রাজপুত রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহানের ৩ লাখ সৈন্য। এবং যে কারণেই হোক রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান পরাজিত হন। এই সুলতানী যুগের সৈন্যসামন্তরাও যে নেহাৎই নিরামিষাশী ছিল না, তার যথেষ্ট প্রমাণ ইতিহাসে আছে।

আর অতি হিন্দুত্ববাদীদের বক্তব্যে, ভাষণে, কথনে তো নারী নিপীড়নের কাহিন হামেশাই শুনতে পাওয়া যায়। অবশ্য সেটা মিথ্যেও নয়, অন্তত আমি যতটুকু পড়াশোনা করে জেনেছি। তার মানে নারীসঙ্গদোষ সব শাসকদের আমলেই ছিল। সুলতানী যুগেও ছিল, ছিল মুঘল জমানাতেও। কিন্তু সব দোষ শুধু বাবরের কেন? প্রশ্ন আমার একটাই। তবে কি বাবর মোঘল যুগের সূচনা করেছিলেন বলে? আর মোঘল যুগের উৎকর্ষ সব যুগকে ছাপিয়ে গিয়েছিল বলে?
এসব বিজ্ঞ এবং জ্ঞানী মানুষদের গবেষণার বিষয়। আমি সামান্য আদার ব্যাপারী এবং সব্জি, বিশেষতঃ 'আলু' সম্বন্ধে উৎসাহী ব্যক্তি। বলতে পারেন আলুর কারবারি। সুতরাং জাহাজে কী কী ঘটছে, জাহাজ কোথায় যাচ্ছে, সে সম্পর্কে আমার কোনও আগ্রহ নেই।
ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়া হয়ে যাচ্ছে। ছোট সারাংশে আসা যাক। ভারতে বিদেশি শাসনের ১১৯২ থেকে ১৫২৬ সাল পর্যন্ত সুলতানি যুগ। ১৫২৬ থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত মোঘল শাসন আমল। ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ইংরেজদের শাসনকাল।
উপরের দুটি যুগ নিয়ে আমার মাথা ব্যথা না থাকলেও ব্রিটিশ ইংরেজদের নিয়ে আমার দুশ্চিন্তার শেষ নেই। শিক্ষা-দীক্ষা, পশ্চিমী কালচার, বাধাহীন উদ্দাম জীবন ইত্যাদি নিয়ে ব্রিটিশ ইংরেজদের ভারতে আগমন। এখানে সমস্যা আরও বেশি। ব্রিটিশ ইংরেজ মানেই অতি মাত্রায় ইন্দ্রিয় পরায়ণ। যারা নিজের দেশেই রাস্তাঘাটে সেক্স করে। তারা অন্য দেশে গিয়ে কী করবে, তা সহজেই কল্পনা করা যায়।
পাঠান মোঘলদের মতো ইংরেজদের কাহিনিও অনেকটা একইরকম। খুব কম সংখ্যক ইংরেজ নিজের বউ বা বান্ধবীকে এদেশে এনেছিলে। বাকি অসংখ্য ইংরেজ জাস্ট ঝাড়া হাত-পা হয়ে এসেছিল। সুতরাং ভারতে এইসব ইংরেজদের ‘যৌন জীবন’ সম্পর্কে আপনারা আমার থেকে অনেক বেশি ভালো জানেন।
এতক্ষণ ধরে যে ধানাই পানাই করা হল, তা স্রেফ ভূমিকা। এবার রহস্যের মূল অন্দরে পা ফেলা যাক। পাঠান, মোঘল এবং ব্রিটিশ –এরা দীর্ঘদিন ভারতে রাজত্ব করেছে। শাসন করেছে। রহস্য সেই একটাই। এরা হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া, কেউই নিজেদের বউ বা বান্ধবীদের দেশ থেকে নিয়ে আসেনি।
কিন্তু যৌন ক্রিয়াকলাপ ঠিকই চালিয়ে গেছে। এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা চালিয়েছে গায়ের জোরে, বলপূর্বক। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডগড্য মাত্রায় বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল না তা নয়, কিন্তু পরকীয়া সম্পর্ক ছিল আরও বেশি। সে যুগের যৌন জীবন অনেক ফ্লেক্সিবল ছিল। রাজা, মন্ত্রী, আমাত্য, পারিষদেরা কে কাকে ভোগ করছে – তা নিয়ে কারো তেমন মাথা ব্যথা ছিল না। তবে আসল যন্ত্রনায় ছিলেন মহিলারা। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে তারা নির্যাতিতা হয়েছেন, কখনো নিশ্চুপে কখনো সোচ্চারে।
৩.
রহস্যের চাবি এবার খোলা যাক। ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়দের অত্যাচারে সপরিবারে যারা ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন অর্থাৎ মুসলমান (যবন?) হয়েছিলেন, তাদের কথা ছেড়ে দিন। কিন্তু প্রশ্ন হল, অমুসলিমদের ভেতরে অন্য জাতির DNA ঠিক কতটা আছে ?
ভারতবর্ষ শুধু পাঠান, মোঘল, ব্রিটিশরা নয় –দেশীয় হিন্দু রাজারাও শাসন করেছে। পাঠান, মোঘল, ব্রিটিশরা কখনোই পুরো ভারতবর্ষ দখল করতে পারেনি। আর করলেও অনেক রাজ্য হিন্দু শাসকদের জায়গীর দিয়েছিল। অসংখ্য হিন্দু করদ রাজ্যের প্রমাণ ইতিহাসে অনেক আছে।
১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে ৫৬৫ টি দেশীয় করদ রাজ্য ছিল। এই রাজ্যগুলি ব্রিটিশ ভারতের অংশ ছিল। তবে তাদের নিজস্ব শাসক ছিল। তারা ব্রিটিশ সরকারের সাথে একটি চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ক বজায় রাখত। মানে ৫৬৫ টি রাজাও ছিল। এবার এদের সবার অত্যাচার পর্ব এক জায়গায় করুন। পাঠান, মোঘল, ব্রিটিশ, তার সাথে দেশীয় রাজারা, ৫৬৫ জন করদ রাজা – সব মিলে মারাত্মক খতরনাক এক অত্যাচার পর্ব।
তাহলে সারাংশ দাঁড়ালো এই, ভারতের ইতিহাসে হিন্দু রাজারা শাসন করেছে। পাঠান, মোঘল বা মুসলমান শাসকেরা শাসন করেছে। ব্রিটিশ ইংরেজ বা খ্রিস্টান শাসকেরা শাসন করেছে। শাসক মানে কম বেশি সবাই-ই অত্যাচারী, মৌ-লোভী। ইতিহাস তো তারই সাক্ষী দেয়।
কোন রাজা বা শাসক কখন কার ঘরে ঢুকছে, কোন রাজা বা শাসক কখন কাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, কোনা রাজা বা শাসক কখন কাকে বিয়ে করছে, সেসব বিতিকিচ্ছিরি জগাখিচুড়ি ব্যাপার। তথাকথিত ইতিহাসে রাজা-বাদশা ইন্দ্রিয়পরায়ণতার কাহিনি খুব অল্পই উল্লেখ আছে। কথায় আছে, বাঁশের সে কঞ্চি দড়। পাত্র-মিত্র, আমাত্য, সাধারণ সৈন্যরা আবার এই রাজা-বাদশাদের দশ কাঠি উপরে ছিল। অর্থাৎ সাধারণ সৈন্যরা গ্রামে গঞ্জে মানে আমজনতার সাধারণ তৃণমূল স্তরে (Grass Root Level) যে নারী লুন্ঠন, নারী ধর্ষণ, লাম্পট্য, পরকীয়া ইত্যাদি কত শত করেছে, ইয়ত্তা নেই। তার বর্ণনাও কোনো ইতিহাসে মিলবে না।
না মেলাই স্বাভাবিক। কারণ যেখানে রাজা বাদশাহদের যৌনাচারের কাহিনীই সেভাবে নেই, সেখানে সাধারণ সৈন্যসামন্তদের যৌনতার ইতিহাস লেখা হবে কিভাবে? তবে তার প্রমাণ আছে। প্রমাণ আছে কথা-সাহিত্যে, প্রমাণ আছে লোক-কথায়, প্রমাণ আছে লোক-গানে। আর বায়োলজিক্যাল প্রমাণ আছে ডি.এন.এ. -তে। কার শরীরে কার কার ডিএনএ ভরা আছে, দেবা ন জানন্তি। ও-ই যে কে কখন কাকে তুলে নিয়ে গেছে, কে কার ঘরে ঢুকেছে, কেউ জানে না।
তখন এত হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমও ছিল না গর্ভপাতের জন্য। সুতরাং কে কার পুর্বপুরুষ ছিল, বলা বড্ড মুশকিল। অর্থ্যাৎ ভারতে কোনো মুসলিম জোর করে বলতে পারবে না যে সে খাঁটি মুসলমান। কোনো হিন্দু জোর করে বলতে পারবে না যে সে খাঁটি হিন্দু। ভারতে কোনো খ্রিস্টান জোর করে বলতে পারবে না যে সে খাঁটি খ্রিস্টান। রক্ত বা ডিএনএ -তে কিছু না কিছু ভেজাল আছে, থাকবেই।
মরাল অফ দ্য স্টোরি : ভারতের মুসলমানরা মঙ্গলগ্রহ থেকে আসেনি। অধিকাংশই উচ্চবর্ণের হিন্দুদের দ্বারা অত্যাচারিত এবং ধর্মান্তরিত। ভারতীয় মুসলমানদের মূল উৎস নিম্নবর্গের হিন্দুরাই। কিছু কিছু জায়গায় উচ্চবর্ণের হিন্দুরাও ধর্মান্তরিত। যার উল্লেখ কিছুদিন আগে আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতও করেছেন। ইউটিউবে তার DNA বিষয়ক বক্তব্য পেয়ে যাবেন একটু খুঁজলেই। তিনি স্বীকার করেছেন, ‘সব ভারতীয়ই ডিএনএ-গতভাবে এক।
এবার আসল কথায় ফেরা যাক। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভের পর, সব ইংরেজরা ইংল্যান্ডে ফিরে গেছে। দু-একজন ছাড়া ইংরেজদের টিকিও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
ঠিক তেমনই মোঘল সাম্রাজ্যের পতনের পর মোঘলরাও আফগানিস্তান ও তুর্কিমেনিস্তানে ফিরে গেছে। আর পাঠানরা তো ১৫২৬ সালের পর পরেই তুর্কিমেনিস্তান ও আফগানিস্তানে ফিরে গেছে।
সে যুগের রেওয়াজই ছিল সাম্রাজ্য পতনের পর যে যার নিজ দেশে ফিরে যাওয়া। সুতরাং ইংরেজদের মতোই বাবর এবং বাবরের বংশধরেরা নিজেদের দেশে কবেই ফিরে গেছে। বাবরের অওলাদরাও সব চলে গেছে। কেউ নেই। পড়ে আছে কিছু বাবরি চুল আর বাবর শা মিষ্টি।